পঁচিশে বৈশাখ ১৪২৭ ,প্রথম উড়ান
এক্স / ১
প্রেমিকের
ব্যবহারযোগ্যতা নষ্ট হয়ে গেলে
মাঝরাতে
বৃষ্টি নামে
পাইনবনের
মাথায় পলিথিনের চাঁদ ওঠে
সমস্ত
আলফাবেট হারিয়ে মানুষের হিসেবের খাতায় একটা কাটাকুটি পড়ে থাকে শুধু।
একটা 'X'
এক্স একটা
পুরনো টুথব্রাশের মতো বিপজ্জনক।
অনেক
সঙ্গমঋতু ও প্রিয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকা
একটা
বাতিল বেডশিটের মতোই গ্লানিময়।
এক্স একটা
বোবা আর্তনাদ, বালিশের নীচে চেপে রাখা নিষিদ্ধ কান্নার মতো।
এক্স / ২
'X' আসলে
একটা জনশূন্য গোরস্থান
ভৌতিক
জ্যোৎস্নায় সেখানে একাকী দাঁড়ালে
মনে হয় :
এইসব ঘুমন্ত পাখিরা একদিন
ঘর
বেঁধেছিল খড়কুটো মুখে নিয়ে,
রামধনু
রঙের স্বপ্ন দেখেছিল
নিরিবিলি
চোখের পাতায়।
এখন অলীক
সব।
তাদের
বাসি স্বপ্নের উপর দিয়ে এখন অনায়াসে
হেঁটে
যেতে পারে গ্রামীণ সাপেরা।
যে কেউ
আঙুল দেখিয়ে টিটকিরি দিতে পারে।
যেন একটা
গোটা মানুষ সারারাত মাথা নীচু করে
ফেরিঘাট
পার হয়ে চলে গেছে
পুড়ে
যাওয়া বেতসের বনে।
এক্স / ৩
' X '
একটা বিপজ্জনক আলফাবেট।
যেন
যুযুধান দুটি তরবারি। অবিমৃশ্য বালকের কাটাকুটি খেলা -
আত্মঘাতী
জয়ের উল্লাস
অলীক
মুক্তির ভিতরে অনন্ত দহন।
তার
জন্ম-নক্ষত্রের নাম অশ্লেষা-নগরী।
জতুগৃহ
জোডিয়াক সাইন।
বাকি ২৫
টি আলফাবেট
তার
সন্দেহজনক চরিত্র নিয়ে
অনায়াসে আঙুল
তুলে কথা বলতে পারে।
এক্স / ৪
অন্যের
প্রাক্তনকে সকলেই পথে বসাতে চায়।
জুতো ও
জাঙিয়া চুরি করে
ফুটপাতে
একা ফেলে রেখে চলে যায়।
এক
মাইলস্টোন থেকে পরবর্তী মাইলস্টোনের দিকে যেতে যেতে ক্রমশ সে অন্ধ হয়ে যায়,
পুড়ে যায়
পদতল, দুচোখের পাতা।
প্রেমহীন,
পাখিহীন একটা মরা পৃথিবীতে
সারাদিন
একা একা ঢেউ গোনে।
সেই কোন
অরূপনগরে
ভুটিয়াবস্তি
থেকে কেনা শীতবস্ত্র হারিয়ে ফেলার পর
তোমার
লেখায় আর তোমাকে খুঁজে পাচ্ছি না।
নতুন
পাড়ায় কেউ তোমার নামও জানে না।
চারপাশে
চরিত্রহীন শীত
আগ্রাওয়ালিদের
মতো টাল খেয়ে পড়ে আছে পরবর্তী বসন্তের লোভে।
এক্স / ৫
আমাকে কেউ
'X' বলুক আমি চাই না।
বকো,
মারো, যত খুশি প্রাণদণ্ড দাও
থালা
ছুঁড়ে দিয়ে উপোস করিয়ে রাখো সারারাত।
তবু এই
ছেঁড়া পালের দিশাহীন নৌকো ছেড়ে
দু'কামরার
ফ্ল্যাটবাড়ি ছেড়ে
মাঝরাতে
কোথাও যেও না।
থ্যাঁৎলানো
আঙুল দিয়ে
আমি
পুনরায় ধুলোর উপরে লিখে রাখব
তোমার
মুখ।
কেউ
তোমাকে প্রাক্তনী বললে তার টুঁটি ছিঁড়ে
মর্গে
পাঠাব।
হিন্দোল ভট্টাচার্য
কৃষক
আগুনের মধ্যে বসে আমরা তবু ফসল কাটার স্বপ্ন দেখতে
পারি;
দেহ অত সহজে পোড়ে না। পুড়লেও মরতে সময় নেয়।
যুদ্ধ করেছি এতদিন, মৃত্যুর সামনে বসে গান গেয়েছি
প্রেমের,-
মন থেকে খসে গেছে সমস্ত বর্ম। পুরোহিত এসে বলেছেন
এইবার নিজের শ্রাদ্ধ করে যাওয়ার সময় হয়েছে। বীজ
গুনেছি,
মাটির উপরে রোদ আর জলের মধ্যে হেঁটে গেছে উত্তরপুরুষ।
আমরা সমাধি থেকে উঠে এসেছিলাম একদিন,- আমরা জল থেকে
উঠে এসেছিলাম একদিন। আমরা আগুন থেকে উঠে এসেছিলাম
একদিন।
আজ বুকের ওপর দিয়ে ট্রেন চলে গেলেও আদিম জরাসন্ধের
মতো
জেগে উঠি। জন্ম নেই যার, মৃত্যু তার কীভাবে হবে হে
উত্তরপুরুষ?
চাঁদের আলোর মতো মায়াবী এ জীবন নিয়ে এসো গান বাঁধি।
সন্দেহ
প্রতিটি মৃত মানুষের
চাদর সরিয়ে
মানুষ দেখে নিচ্ছে এই দেহ
তারই ছিল কিনা
চাদর সরিয়ে
মানুষ দেখে নিচ্ছে এই দেহ
তারই ছিল কিনা
আশ্চর্য জীবন...
এখন আয়নার সামনে গেলেও
ভয় হয়
ভয় হয়
সরে যাই
যেন সেও দূরে সরে যায়
যেন সেও দূরে সরে যায়
সংক্রান্তি
আমাদের দেখা হবে কোনওদিন, এই কথা ছিল;
এখন রাস্তায় কোনও ট্র্যাফিক পুলিশ নেই,-
প্লাস্টিক জড়ানো দেহ প'ড়ে
প্লাস্টিক জড়ানো দেহ প'ড়ে
আমাদের বাড়িগুলো এতদূরে কখনও ছিল কি?
টিমটিম করছে বাল্ব, কারোর পায়ের শব্দ নেই
একটি সবুজ আলো জ্বলে আছে
ট্র্যাফিক সিগন্যালে
ট্র্যাফিক সিগন্যালে
মানুষ ভূতুড়ে মুখে জানলা থেকে দেখে নিচ্ছে
কার ছায়া পড়ে আছে, খিদে না ব্যাধির?
কার ছায়া পড়ে আছে, খিদে না ব্যাধির?
তোমার খিদের কাছে আমার বিষাদ কিছু নয়
আমাদের দেখা হবে কোনওদিন, এই কথা ছিল
এখন গোপনে জানি
তোমার আমার মধ্যে একপৃথিবী মৃত্যু শুয়ে আছে
তোমার আমার মধ্যে একপৃথিবী মৃত্যু শুয়ে আছে
প্রার্থনা
থামো
থামো এবার
মানুষ যদি না থাকে
কে তোমায় নিয়ে কবিতা লিখবে
কে তোমায় নিয়ে গান লিখবে
কে তোমায় নিয়ে গান লিখবে
কে তোমার ছবি আঁকবে
তৈরি করবে রূপকথা
দর্শন
ধর্ম
আর আশ্চর্য সব স্বপ্ন?
তৈরি করবে রূপকথা
দর্শন
ধর্ম
আর আশ্চর্য সব স্বপ্ন?
থামো
থামো এবার
মানুষ যদি না থাকে
কে তোমায় ভয় পাবে আর
কে তোমায় ভয় পাবে আর
গ্রাস
একথালা মৃত্যু এসে মানুষকে বলছে, তুমি খাও
মানুষ নিজের লাশ ঘৃণা করে মৃত্যুর পরেও
কে যে আসে দরজায়, কে যে চলে যায়
মানুষ পেটের দাস, মৃত্যু খায়, পুনর্জন্ম মেখে
মানুষ নিজের লাশ ঘৃণা করে মৃত্যুর পরেও
কে যে আসে দরজায়, কে যে চলে যায়
মানুষ পেটের দাস, মৃত্যু খায়, পুনর্জন্ম মেখে
লাশ প্লাস্টিকেই মোড়া, পায়ে শুধু কয়েকটি নম্বর
এটুকু জীবন তবে? এটুকুই দিবাস্বপ্ন ছিল?
মানুষ ও মানুষের লাশ মুখোমুখি
হাতের উপরে হাত রাখে। আকাশে সুকান্ত চাঁদ
বোঝে এই পৃথিবীতে কেন তারা সময় পায়নি!
হাতের উপরে হাত রাখে। আকাশে সুকান্ত চাঁদ
বোঝে এই পৃথিবীতে কেন তারা সময় পায়নি!
যেভাবে এ পৃথিবীতে
একটি হাসপাতাল মুহূর্তেই মর্গ হয়ে যায়
একটি হাসপাতাল মুহূর্তেই মর্গ হয়ে যায়
এপিটাফ
আমি মরলে তুমি জানতে পারবে না
তুমি মরলে আমি জানতে পারব না
তুমি মরলে আমি জানতে পারব না
চুপিচুপি মৃতদেহ সরিয়ে ফেলা হবে
এবং পৃথিবী হবে নিরাপদ, কারণ
আর কোনো মানুষের সঙ্গে তার সহবাস
হবে না কোথাও
আর কোনো মানুষের সঙ্গে তার সহবাস
হবে না কোথাও
তাই বোবা হয়ে থাকো,--
জীবন নশ্বর
জীবন নশ্বর
মানুষ নিহত হলে মৃত্যুও পরাজিত হয়
ভাইরাস
এক রাগী ক্ষুধার্ত মাংসাশী শয়তানের মতো
পেশাদার খুনীর চেয়েও শান্ত
হিটলারের চেয়েও উন্মাদ
স্তালিনের চেয়েও নীরব
এক অবধারিত নিয়তির মতো
সে, অপেক্ষা করছে
পেশাদার খুনীর চেয়েও শান্ত
হিটলারের চেয়েও উন্মাদ
স্তালিনের চেয়েও নীরব
এক অবধারিত নিয়তির মতো
সে, অপেক্ষা করছে
মেরুদণ্ডের ভিতরে যেন ভূতের সিনেমার ক্লাইম্যাক্স
মাঠের উপরে না-কাটা ধানের মধ্যে
সে, অপেক্ষা করছে
মাঠের উপরে না-কাটা ধানের মধ্যে
সে, অপেক্ষা করছে
নবান্ন
রাস্তার উপরে লাশ
লাশের উপরে রাস্তা
লাশের উপরে রাস্তা
শ্বাস ও কষ্টের মধ্যে জমে যাচ্ছে খিদের হাইফেন
অকালবোধন
দুখজাগানিয়া
এক প্রাচীন ড্রাকুলা যেন ঘুম থেকে উঠে পড়ছে
দুঃস্বপ্নের ভিতর
দুঃস্বপ্নের ভিতর
খোপ কাটতে কাটতে ঠিক
নিজের শরীরের মাপে ঘর তৈরি করছে মানুষ
মৃত্যুর সঙ্গে মানুষের আর
তেমন শত্রুতা নেই
নিজের শরীরের মাপে ঘর তৈরি করছে মানুষ
মৃত্যুর সঙ্গে মানুষের আর
তেমন শত্রুতা নেই
ভয় শুধু কেউ যদি ছুঁয়ে চলে যায়!
অন্নপূর্ণা
এই সব সত্যি কথা
তোমায় বলতে চাইনি। বরং ফুল পাখি আর বসন্ত নিয়ে কয়েকছত্র পদ্য লিখলে ভাল হত। অথবা
কালবৈশাখী নিয়ে আত্মকথা। এখন দোকানগুলো অন্ধকার। রাস্তায় ঘুম থেকে উঠে পড়েছে
উনবিংশ শতাব্দীর লাশ। আর সে কত পাখির ডাক তোমায় কী বলব! সারি সারি মৃতদেহের উপর
এসে পড়েছে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম সূর্যের আলো। আমি এত আলো দেখিনি। এত আলো দেখেনি
নিমগাছ। হাওয়ার ভিতরে পলাশের স্বাধীন লাল রঙ উড়ছে অনেকদূর। এই সব সত্যি কথা শুনলে
তুমি আমায় নির্বাসন দিতে পার।
অন্ধকার সত্য
নয়। আলো সত্য নয়। এই মৃত্যুও সত্য নয় হে যোদ্ধা। আমাদের সব যুদ্ধ হল অপেক্ষার এক
একটা শিবির। যেখানে থমথম করছে ভয়। লাশ কখনও লাশের দিকে তাকাতে পারে না। আর তাই এই
ভয় বোবা, শব্দহীন, চুপ! আজ বুঝি, নীরো কেন বেহালা বাজান রোম পুড়ে যাওয়ার সময়। যেতে
দাও। তুমি প্রবাহ, কিন্তু প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করার উপায় তোমার জানা নেই। আস্তে
আস্তে এগিয়ে আসছে যে, তার সঙ্গে কয়েক পাক ঘুরে এসো সন্ধ্যাবেলা। ওরা
সন্ধ্য্যাবেলাই আসে। বিষাদ যেখানে রাস্তার পাশে সিগারেট ধরায়।
বলতে চাইনি এতো
সত্যি কথা। মৃত্যুর কাছে এলে, মনে হয়, আমি কেন আরও বেশি করে দেখলাম না আমার ছায়া?
কেন দেখলাম না কত উদ্দেশ্যবিহীন রাত উদ্দেশ্যবিহীন দিন আমার শরীর থেকে বয়ে চলে
যাচ্ছে এক হিংস্র শ্বাপদের মতো। কেউ না কেউ তার ডাক শুনতে পায়। কেউ বলে তক্ষক, কেউ
বলে নিশি। আবার নিয়তিও বলে কেউ। আমি গন্ধ
পাই একটি কুটিরে ভাতের। প্রাচীন উনুন ধরিয়েছে কেউ। খিদে পায়। এটুকুই সত্যি। যার
কথা তোমায় বলিনি।
জলসাঘর
প্রতিটি ইঁটের গায়ে লেগে থাকে তোমার জীবন
প্রতিটি ভাষার মধ্যে, প্রতি অক্ষরেই
অসমাপ্ত কবিতার শিরোনামহীন কোনও মাটির ফলকে
লেগে থাকে তোমার জীবন
বহুবছরের শ্যাওলা যেন জমে জমে আজ প্রবালপ্রাচীর
কত রাস্তা চলে গেছে এই পথ দিয়ে তুমি জানো?
একটি গানের মধ্যে আরও কত গান মিশে থাকে
একটি মৃত্যুর মধ্যে কত মৃত্যু
একটি নদীর মধ্যে কত পাড়
কত যাত্রাপালা, কত বাউলের একতারার সুর
কত প্রসববেদনা
জীবন আসলে এক ভাঙা রাজবাড়ি যার
পুকুরে আলেয়া দেখা যায়।
মৃত্যু তার কাছে আসে, একটি ভিখিরি যেন-
তারও ছিল ধানক্ষেত, ফসল কাটার ঋতু, খেজুরের রস।
আপ্যায়ন করো তাকে, পাত পেড়ে বসাও দালানে।
অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়
চারপংক্তির পাসওয়ার্ড
১।
যতটা লেখার ছিল, একবর্ণ বলতে পারিনি
যতটা বলার ছিল, একবর্ণ ফোটেনি লেখায়
না-বলা-না-বর্ণ পরস্পরের প্রতি চুপচাপ তাকায়...
শূন্যতার ভাষা দিয়ে আত্মজীবনী লেখা যায়!
যতটা বলার ছিল, একবর্ণ ফোটেনি লেখায়
না-বলা-না-বর্ণ পরস্পরের প্রতি চুপচাপ তাকায়...
শূন্যতার ভাষা দিয়ে আত্মজীবনী লেখা যায়!
২।
এক চোখে চেয়ে আছে মোবাইল টাওয়ারের টং
প্রবীন মফঃস্ফল ক্লীন-শেভড্ তুখোড় যুবক
সন্ধ্যেয় লোক আর জড়ো হয় না রকে বা দাওয়ায়...
টেলিফোন বুথ খোলা--যেন স্মৃতিবিলাসের শখ
প্রবীন মফঃস্ফল ক্লীন-শেভড্ তুখোড় যুবক
সন্ধ্যেয় লোক আর জড়ো হয় না রকে বা দাওয়ায়...
টেলিফোন বুথ খোলা--যেন স্মৃতিবিলাসের শখ
৩।
উপরে চক্কর কাটছে চাকচাক চতুর চিলেরা...
তলায় পবিত্র মাটি--অনাবিল, অঢেল, উর্বর...
এইখানে কোনওদিন ভাগচাষিদের ভাগ ছিল...
বদলেছে মালিকানা--আস্তে আস্তে বুজে আসবে সব...
তলায় পবিত্র মাটি--অনাবিল, অঢেল, উর্বর...
এইখানে কোনওদিন ভাগচাষিদের ভাগ ছিল...
বদলেছে মালিকানা--আস্তে আস্তে বুজে আসবে সব...
৪।
বাঁ-চোখে কক্ষপথ, ডান-চোখে ঢুকেছে ব্ল্যাকহোল...
সাঁই সাঁই উপগ্রহ... খসে যাচ্ছে উল্কা, ঝুরো তারা...
আর কোনও রন্ধ্র নেই...চাপ চাপ অন্ধ...অন্ধভার...
অনন্ত মহাকাশ স্নায়ুতে স্নায়ুতে দিচ্ছে সাড়া
সাঁই সাঁই উপগ্রহ... খসে যাচ্ছে উল্কা, ঝুরো তারা...
আর কোনও রন্ধ্র নেই...চাপ চাপ অন্ধ...অন্ধভার...
অনন্ত মহাকাশ স্নায়ুতে স্নায়ুতে দিচ্ছে সাড়া
৫।
আমাদের জুটি আর কি অনেকটাই সুচিত্রা-উত্তম
লোকচক্ষে মখমল...আড়ে আড়ে ঈর্ষা, অবিশ্বাস...
ওথেলো নাটকের তত্ত্ব আজও কত জ্যান্ত, প্রাসঙ্গিক!
ঘৃণা-প্রেম বোধ হয়ে প্রত্যেকের ভিতরে ফেলেছে শ্বাস
লোকচক্ষে মখমল...আড়ে আড়ে ঈর্ষা, অবিশ্বাস...
ওথেলো নাটকের তত্ত্ব আজও কত জ্যান্ত, প্রাসঙ্গিক!
ঘৃণা-প্রেম বোধ হয়ে প্রত্যেকের ভিতরে ফেলেছে শ্বাস
৬।
এসব পঙতির নেই পিঠে কোনও আশ্বাসের হাত
ব্যর্থতার জ্বালায় নেই একরত্তি শুশ্রুষার বল...
এইসব পঙতি বড় লোভী, উচ্চাকাঙ্খী, আত্মপর
এইসব পঙতি জানে বুরবক বানানোর ছল
ব্যর্থতার জ্বালায় নেই একরত্তি শুশ্রুষার বল...
এইসব পঙতি বড় লোভী, উচ্চাকাঙ্খী, আত্মপর
এইসব পঙতি জানে বুরবক বানানোর ছল
৭।
টিটকিরি, ঘাড়ধাক্কা, দোরবন্ধ--তারপরও এসেছে!
আত্মসন্মান-লজ্জা-ঘেন্না বলে কিছুই কি নেই?
না এসে পারে না আসে, না ভেসে পারে না তাই ভাসে,
ফিরে আর যায়নিতো...আসছে...ক্রমশ আসছেই...
আত্মসন্মান-লজ্জা-ঘেন্না বলে কিছুই কি নেই?
না এসে পারে না আসে, না ভেসে পারে না তাই ভাসে,
ফিরে আর যায়নিতো...আসছে...ক্রমশ আসছেই...
৮।
আমার গহীনে স্তব্ধ পাথরের প্রাসাদ, পরিখা...
নির্জনতা থম হয়ে ধরে আছে কেল্লা ও মহল...
যে-কোনও মুহূর্তে আক্রমণ এসে পড়তে পারে হঠাৎ--
হাত ডুবিয়ে তুলে আনি অস্ত্রশস্ত্র, ঘোড়া, সৈন্যদল...
নির্জনতা থম হয়ে ধরে আছে কেল্লা ও মহল...
যে-কোনও মুহূর্তে আক্রমণ এসে পড়তে পারে হঠাৎ--
হাত ডুবিয়ে তুলে আনি অস্ত্রশস্ত্র, ঘোড়া, সৈন্যদল...
৯।
মাথাগরমের দ্বীপে কে যে এনে বসিয়ে দিয়েছে!
দুপাশের রগে ঢেউ... ফুলে ফুলে উঠছে কড়া ক্রোধ...
রোদ্দুরে পুড়ে গেছে নীচ থেকে ওপরের বালি...
প্রতিরোধ বাষ্পীভূত... টগবগ করছে প্রতিশোধ...
দুপাশের রগে ঢেউ... ফুলে ফুলে উঠছে কড়া ক্রোধ...
রোদ্দুরে পুড়ে গেছে নীচ থেকে ওপরের বালি...
প্রতিরোধ বাষ্পীভূত... টগবগ করছে প্রতিশোধ...
১০।
স্বপ্নে দেখা জায়গায় হঠাৎ যেমন এলে হয়
তেমন তোমার বাড়ি দৃশ্যতঃ মোড়া কুয়াশায়
এখানে একাই থাকো? খুব ফাঁকা শব্দ-সাড়ারা...
ঢুকে দেখি--তুমি নেই, চোরাপথ নেমেছে তলায়
তেমন তোমার বাড়ি দৃশ্যতঃ মোড়া কুয়াশায়
এখানে একাই থাকো? খুব ফাঁকা শব্দ-সাড়ারা...
ঢুকে দেখি--তুমি নেই, চোরাপথ নেমেছে তলায়
সুপ্রভাত
মুখোপাধ্যায়
মহারোদ দুয়ারে দুয়ারে
নিত্য বিনিময় হচ্ছে, নিত্য
নাম যার হাটে – ঘাটে- মাঠে
মানে প্রতিদিন তুমি
বেচে দাও তোমার সাহস
নিজের জোগাড় সব ____ অন্ন
দে গো অন্নদা - বলেই
সাঁতার দিয়েছ স্রোতে
মহারোদে লালন পালন
গড়েছে নিজের মতো
প্রত্যক্ষদর্শীর চোখে চোখ
এত লোক চারিদিকে _____ সবই শূন্য দিকবিদিক খাঁ খাঁ
ভুবন পাড়ের গ্রামে
একী হলও , নিত্যদা তোমার !
ভিক্ষা তো অন্নের
নয় ভিক্ষা যে আয়ুর ---
কে যে কাকে রক্ষা করবে , ও ভাই নিত্যদা ___
বেঁচে থাকা বহুকাল
বিশ্বজোড়া সুর !
জাল
কুড়িয়ে পেয়েছি
রাত্রি সহস্র মাছির মতো উড়ে
আমাদের পৃথিবীতে শুধু ওই ছেলে আর মেয়ে
কত কত ঘুমাবার ঘরে
তৈরি অনলাইন ক্লাসে
কত ধ্বংস , বিপর্যয়
বস্তু থেকে জন্ম নেওয়া মনে
অনেক সন্দেহ আর ঝোড়ো
হাওয়া ভাইরাল জীবনে
#
কেমন উন্নত বলো !
মানত করেছি দিন রাত
এক করেই বসে আছি
কিছুই করার নেই আর ?
যাদের কিছুই নেই _____ আর
যারা বেচেছে সাহস
তাদের সমস্ত নিয়ে
খালা চলে তোমার আমার
কত লোক শুধু হাটে
বসে বেচে গেলো নিজেকেই
এই আকাশেই ঠিক তারার
উৎসাহ রাখা যাক
খিদের বিদ্যায় আজ
চারিদিক কুড়িয়ে কাঙাল
আমরা তো জড়িয়েছি , জড়িয়েছি
নিজেদের তৈরি করা জাল
লকডাউন
বাইরের গ্রামের কোনও লোকজন প্রবেশ নিষেদ
রাস্তায় টাঙানো বোর্ড বাঁশ- খুঁটি নির্জন সন্ধ্যায়
করোনা ভাইরাস ওই এলো বুঝি, এলোমেলো তাই
শান্ত চুপচাপ সব বাঁশ ঝাড় চারপাশ একাই
কেমন নীরব মোম গলে - গলে পড়ছে যত দূরে
মানব জীবন থেকে মানুষের ছায়া একই সুরে
দূরের বাড়িতে বন্দি, হাত ধোয়া ঠিকঠাক মনে
শূন্যের জটলা যত কাটাকুটি সারাদিন সেই
যেমন চলেছে একা ফাঁকা - ফাঁকা রাস্তাটিও পড়ে
কেমন অভাবী হাওয়া বয়ে চলে শেষ রাজকীয়
গাছেরা ভালই তো আছে ___ পাখি সব করে রব, ওহো!
পাখা মেলা দুই হাত সংক্রমণ প্রতিরোধে জড়ো
হয়েছে পৃথিবী আজ দুএক মুঠোই মাত্র শ্বাস টুকু ধরো ---
শূন্য
ওই তো মৃত্যুর শব্দ _____ ওই তো শহর , গ্রামে গ্রামে
নিজেকেই আঁকড়ে ধরা শত চেষ্টা শূন্যতায় দুলে
সবাই দুর্যোগে ছোটে ভাল থাকতে চিহ্নিত সময়
সময় রোগের দায়ে মুখ থুবড়ে পড়ে চারিদিকে
কেমন কাঙাল প্রাণ কী খাবে ! জোগাড় করা
খই
সকাল বিকাল শুধু গান চাই কেবলই হইচই
বজ্রের কঠিনে আলো ---- জোড়াল বক্তৃতা
শেষ কবে
দিয়েছে পথের বাঁকে সভা আজ মুলতুবী
সাজে
বনে আজ সুস্থ পাখি ডাকছে কাকে একার রৌদ্রেই
কারা বেড়িয়েছে বহুদূর পথে সেই যে শ্রমিক
এ শহর ও শহর চিনে চলে গেছে কত দিক
তাদের মুখের কাছে শূন্য ছুঁয়ে জীবন কঠিন
সাইকেল চালিয়ে পথ কখন মুর্শিদাবাদ হয়
নিজের চালাই বসে ভাঙা গানে মজেছে ফকির
তোমার জন্যেই আজ চারিদিকে গাছ ঝিরঝির
ঝড়
এটা পাচ্ছি, ওটা পাচ্ছি না এভাবে বাজার
প্রশ্ন করে ___ আঙুল তোলে___ প্রশ্ন করে
করে যাচ্ছি গ্রামে বসেই বেচারি হাজার
আমরা পাচ্ছি, পাচ্ছি না কিছু নিজের মুখে
মিথ্যা বলতে রোদ পুড়ে যায় সবার চোখে
দিবস রজনী ডুবে ডুবে ওই শুনতে পাই
বনের হরিণ ঘরে আসছে ___ ওই তো পাহাড়
সবাই যেন দেখতে পাচ্ছে বাকিংহাম
ডাক দিচ্ছে ঝকঝকে ওই ফর্সা রানি
ঝড়ো হাওয়ায় রুটি রুজির প্রচুর দাম
প্রশ্ন করে ___ আঙুল তোলে ____ প্রশ্ন করে
জলজ কবিতা
১.
উঁচু জমি
থেকে গড়িয়ে নামছে
জল
সব জল
যেখানে জমেছে, তাকে
আমি পুকুর
বলি না। সে-ও
এক জলের
আশ্রয়
২.
কবিতাকে
ভালোবাসিয়াছ। তাই
তোমার
কাছেতে গেছি -
আর কোন
কথা নাই
কবিতার
থেকে মুখ ফিরে থাকি
৩.
৩.
নদী শুধু
বয়ে যাও। বয়ে বয়ে যাও, আর
নূপুর
বাঁধো না পায়ে। কিছু নয়, দূরে শুধু
হৃদয়
পুড়েছে কার
৪.
ঘুম নয়, স্বপ্ন নয়। রাত জেগেছি
অন্যরকম, ঝমঝময়ে
কলেজমোড়ে
ঝাপসা হলে
তুমি।
চিঠিভর্তি খাম
এখান
থেকে কী করে যে
বাড়িয়ে
দিই ছাতা, বৃষ্টি তুই থাম
৫.
বর্ষাকাল।
নিজের ভেতর গড়িয়ে
নামছে জল
অনেক
দূরে বনের মাঝে
দেবদারুটি
একা
ঝমঝমিয়ে
খুব ভিজে যায়
বিবস্ত্র
চুল জল-হাওয়াতে, ওর কথাটি ভাবো
আমার
থেকে খুব দূরে নও তুমি
জানলা
খুলে শুধু যেন ঝপসা দেখি
মাঝের
জমি উঁচু-নিচু, দৃষ্টিআড়াল
আমরা এখন
একই ঘরে থাকি
৬.
জলচর।
তলদেশ থেকে জলের কথাটি
লিখি:
সে এক
শিহরণ, মাটি ছুঁয়ে
শালুক
ফুটেছে কত। টুকটুকে লাল
একটি
শালুক আজ
কেউ তুলে
নিয়ে যাবে
অরিন্দম রায়
বসন্ত
বসন্ত এসে গেছে
এসে গেছে হোলি
কারা যেন বলে গেল:
মারো সালো কো গোলি
এসেছে বসন্ত ঋতু
খেলা হবে দোল
রঙ বা আবীর নয়
কার্তুজের খোল
ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে
জনহীন গলি
কারা যেন বলে গেল:
মারো সালো কো গোলি
বসন্তকুঞ্জে তৈরি
শ্রীমধুসূদন
রাঙিয়ে দেবেন তিনি
রাধিকার মন
রাধিকার মন
পিহু ও পাপিয়া ডাকে
মিঠে লাগে বোলি
কারা তবু বলে গেল:
মারো সালো কো গোলি
কুরুক্ষেত্র
চুমুর বদলা চুমু
মাঝখানে সমঝোতা নেই
ঠোঁটের ভিতরে ঠোঁট
শান্তিচুক্তি রদ
হয়ে গেছে
শরীরে শরীর
মিসাইল,লঞ্চপ্যাড রেডি
পরিত্যক্ত
মাইনফিল্ড
দুজনেই পার হয়ে
যাবে?
হারামি
হারামির (কখনো)
ব্যথা লাগে
না
হারামির দুঃখবোধ
নেই
হারামি ইন্সট্যান্ট
দুধের মতো
কফির ভিতরে মিশে
যায়
হারামি একটা
ফেনোমেনন
হারামিপনা ট্রেড
সিক্রেট
একজন হারামি জানে
কিভাবে কার্টসি বজায় রেখে
একজনকে চুমু আর
অন্যজনকে বিষ দিতে হয়
হারামি বিজনেস আর
ফ্যামিলিকে মেশায় না কক্ষনও
হারামি আকাশে মেঘ,নদীপাড়ে কাশ হয়ে ফোটে
একইসঙ্গে চিরন্তন
,কনটেম্পোরারি
হারামিদের জিনঘটিত
অসুখ করে না
রহস্যগল্পের খসড়া
টিকিয়াপাড়ার দিকে
চলে গেছে মেঘ!
চলে গেছে মাঝরাতে
বাড়িতে কাউকে সে
কিছুটি না বলে
শান্ত যুবক মেঘ
নেশাভাঙ করেনি কখনও
রেগে গিয়ে কারও
গায়ে তোলেনি
তো হাত
প্রেমে ব্যর্থ
হওয়ার মতো
যোগ্যতা ছিল না
টিকিয়াপাড়ার দিকে
চলে গেছে মেঘ
থমথমে পরিবেশে
আমাদের আশংকায় রেখে
কবি
মায়া ও প্রপঞ্চময়
এই বাগধারা তোমাকে ফুঁসলে নিয়ে তারপরে নরকে পাঠাবে।দীর্ঘ
অনিদ্রা রোগে বসে যাবে চোখ,কোটরে খিদের মতো জ্বলে থাকবে রুষ্ট সেই দেবীর দেওয়া শাপ
।পাখপাখালির ঝাঁকে তুমি শুধু দেখতে পাবে কিভাবে নিশ্চিত তাদের বাসা ভেঙে যায় ।
তোমার দুই চোখ তখনও
স্থির ও অবিচল । নতমস্তকে তুমি ফিরে আসবে ঘরে।
অবসন্ন,জোড় হাতে প্রণাম জানিয়ে,তোমার পাথর চোখ তুলে দেবে বাস্তবের প্রহরীর হাতে।
যদি পারো
ওকে তুমি কাম দাও,ক্রোধ দাও তুমি
মিনমিনে স্বর ছেড়ে
শেখাও বাঘের মতো সবল পায়চারি
ঘাড় মটকে রক্ত খাক
বাংলা কবিতা
গন্ধ
নারীর গন্ধ ভাল, সাবানের মত
যত মাখি থেকে যায় দুঘণ্টার মত।
তবু সেই
সামান্য সাবানস্মৃতি ফিরে ফিরে আসে
কানের লতির ফাঁকে আঠা লেগে থাকে
ঘষে ঘষে তুলি
প্রতিটি ঘর্ষণে
প্রিয় নারীটির বডি
চোখে ভেসে ওঠে।
ডালা খুলে শুঁকি
গুঁড়ো সাবানের মত বরফের কুচি
বাহুসন্ধি ঘাড়ে
দুহাতে খামচে ধরি,
এ শরীর রোমরোম চেনে।
তবু স্থানীয় সাবান যেন অল্প স্টে করে
বাড়ি ফিরে জামা শুঁকে দেখি
প্রবল শবের গন্ধ
প্রিয় নারী চলে গেছে দূরে !
নৈশ শিকারের গল্প
গল্পে দারোগা একটি ঘোড়া ছিল।
তার নীল চোখ,কপালে লোমশ শিং
ঘাড়ের নরম কেশর পিঠেতে লুটিয়ে পড়ে
কুয়াশায় ঘ্রিক ঘ্রিক ডাকে
অরণ্যে কাঠ কাটে গুপ্ত শিকারীরা
আট ব্যাটারির আলো—
ফাঁকে ফাঁকে ঝিকিমিকি করে।
সফেদ ঘোড়াটিকে মায়া-হুর লাগে
দীর্ঘ সাভান্না ঘাসে মাংসের আদিম ঘ্রাণ...
অস্ত্রকে পাগল করে।
নদীটি খরস্রোতা—
চুরি করা কাঠ,মাংস,দাঁত এ-পথে শহরে যায়।
মৃতদের শোকে অরণ্যে কলরব—
কর্ণ ছাপিয়ে এসে
ঘুমের ব্যাঘাত ডাকে।
পাছে দারোগা ধরে ফেলে তাকে...
বখরা বুঝে নিয়ে রক্ষী পালায়
থেকে থেকে মনে পড়ে
নীল-ঘোড়া-চক্ষুটি
চেয়েছিল তার দিকে অপলক
কী যে ছিল সে দৃষ্টিতে কী !
ঘোড়া ছিল গল্পে দারোগাটি !
ভাঁড়ারে হত্যা দৃশ্য
শুকনো দুপুর-কাল।গৃহস্থের ভাঁড়ার ঘরে
ঢুকে পড়ে কাক।
থরে থরে ছোলা,ডাল, মুড়ি।
ছোট্ট ডিমের মাথা উন্মাদ লাগে
চোখের ভেতরে দানা কিলবিল করে
নখে নখে চঞ্চু উপড়ে ফেলে—
ফুঁড়ে দেয় চোখে।
ঘোলাটে কাকের চোখ প্রখর দুপুর তাপে
দেখে আঁধার নেমেছে যেন
শস্যের বিস্তীর্ন মাঠে।
ছায়া ছায়া মানুষেরা পাহারায় আছে
হাতে ছোট লাঠি
ছুঁড়ে মারে।
অন্ধ কাক ভাবে—
আকাশ হতে বুঝি
শস্যডাল পড়ে!
গোধূলিতে গৃহস্থের ভৃত্যটি
মন্দমুখ করে
বিকেল বিকেল কে
মাংস ছাড়াতে বসে?
কাকগুলি ঘিরে ধরে
সে চামড়া চঞ্চু চোখ
দূরে ছুঁড়ে মারে...
স্বপ্ন
স্বপ্নের ভেতর ছোট ছোট ছেলেমেয়ে লুকোচুরি খেলে
কুয়াশায়।
শ্যাওলা রঙের গা
একে অন্যের কানে কী এক গোপন কথা ঢেলে
খিলখিল হাসে।
তুই তবে বুড়ি
উবু দশ কুড়ি...
কে লুকোল নির্জনে,পাতায়?
খাঁড়ির ভেতরে কে?
নীলাভ চোখে দেখে—
জ্যোৎস্নায় কাগজের ডিঙি
সাদা সাদা পাখি, ফুল
শিশুগুলি চাঁদমালা...
যেই ধাপ্পা দেয়—
অমনি পুতুল।
বালিকাটি বসে থাকে, ছড়ানো পুতুলে
সাদা মৃত চোখে ওকে দেখে
দুটি শোকার্ত চোখ টলটলে।
জ্যোৎস্নার রেণু নামে দিকে দিকে
নিশি ডাকে দূরে
শোক মাটি স্পর্শ করে।
অমনি খিলখিল জেগে ওঠে পুতুলেরা
বালিকাটি হাসে...।
আমার কী কাজ আর
স্বপ্ন মগজে পুরে জেগে উঠি
দেখি স্বপ্নের পুতুল এক সম্মুখে বসে!
যে কিশোরী পাতায় লুকিয়ে ছিল—
থেকে গেছে স্বপ্নের বাহিরে।
মায়া
জমির ভেতর পা ঢুকে আছে
সে জানে এ মায়া—
এ তার ছিল না কখনো
এ কেঁচোর, মেঠো ইঁদুরের
চন্দন গুঁড়ির মত মাটি মাখে গায়ে
পা মাটিতে আরেকটু যায়।
কারা যেন কঁকিয়ে কঁকিয়ে কাঁদে
না ফোটা শীষের দুঃখ—
মুঠিতে নীল হয়ে আছে।
সে আরও ঢোকে—
বাইরে কেবল তার কাকের চেহারা
প্রান্তরে ঋষি নক্ষত্র ঝরে
দুচোখে কান্না ছাপিয়ে আসে। এত মোহ! মায়া!
মাটিতে পুরোটা ঢুকে সে দেখে—
এ জায়গা সে চেনে
এখান থেকেই তো—
এক বরষা রাতে
দুঃখিনী মায়ের কোলে
তার জন্মাতে যাওয়া।
বেদি ফুলে ফুলে শাদা।
নিজের গোর দেখিয়ে
নাতিকে সে বলে—
এসব পুরনো ঘটনা !







Post a Comment