কলেজ স্ট্রিটের চ্যাপলিন /ঋক অমৃত : একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা



প্রকাশ রায়

 
     কবির সাথে কবিতার সম্পর্ক নিবিড় অভিমানের অনুভূতি আর শব্দ দিয়ে কবিতার কবি তাঁর ভাবনাকে কাব্যরূপ দেন গ্রন্থিত বা অগ্রন্থিত , উত্তীর্ণ কিংবা অনুত্তীর্ণ সমস্ত কাব্যসৃষ্টি নিয়ে কবির সংসারই তাঁর কবি পরিচয় আবার কবিতা শুধুমাত্র কবিভাবনার আক্ষরিক মূর্তি তো নয় বরং কবিতা নিজেই এক বিমুর্ত, স্বরূপ, স্বতন্ত্র একটি সত্তা যার সাথে কবির হঠাৎ হঠাৎ দেখা হয়ে যায় 'উন্মুক্ত জানলা' দিয়ে

“...পান্ডুলিপি বই / হয়ে গেলে আর থেকে যাবে কিছু বাতিল কবিতা / একরাশ অভিমান নিয়ে যারা চেয়ে আছে এতক্ষণ / আমার দিকে। টেবিল ল্যাম্পের আসন্ন আলোয় / আমারই হাতের ছায়া পড়েছে ওদের দিকে জিজ্ঞাসা / করি, "তোমাদের তো আমি রূপ দিয়েছি ,বদলে কী / দিয়েছ ফেরত ?" উত্তর আসে, 'পরিচয়'
 (পৃষ্ঠা-)

কবিতার কাছে কবির সব থেকে বড় পাওয়া কবিপরিচিতি ' কলেজ স্ট্রিটের চ্যাপলিন ' ঋক অমৃত-এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ অপেক্ষাকৃত নবীন এই কবির প্রথম কবিতা বইয়ের ছাব্বিশটি কবিতায় যে ভাষাশৈলী, সৌন্দর্যচেতনা , জীবনবোধের গভীরতা, নিঃশব্দ রসিকতা, নাগরিক যাপনের ক্লান্তি, বিষন্নতা, আনন্দ , দৈনিক চেতনা, স্মৃতি আর নস্টালজিক মায়া , ম্যাজিক  ইত্যাদির সন্ধান পাই তাতে এই কবির সেই কবি পরিচিতি ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে পরিচয় কবিতা থেকে কবিতান্তরে কবির নিজস্ব কাব্যিক প্রকরণে ক্রমাগত সমৃদ্ধ হয়েছে

নাগরিক যাপনের গতিশীলতা, শব্দময়তা, ক্লান্তিহীন দৌড়, আলোর ছটফটানির মধ্যে কবির কবিসত্ত্বা কান পেতে শোনে এক লুকানো নিস্তব্ধতা , বাজি রাখে শামুকে আর এখানেই ফুটে ওঠে এই যুবকের কবি প্রত্যয় তাই প্রথম কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতায় তার আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা -----

"এই ক্যাকোফোনিক শহরে / একটা নিস্তব্ধতা শুনতে পাই / আমি / খরগোশ আর কচ্ছপের দৌড়ে শামুককে বাজি রাখি" (অন্য সূত্র, পৃ: )

শামুক এখানে একটি প্রতীক। পৃথিবীর মন্থরতম ক্ষুদ্র প্রাণীর শামুক কবিও তো এই মহাজগতের ক্ষুদ্রতম ক্ষণজীবী নগণ্য একটা প্রাণ যে যেকোনো মুহূর্তে পিষে যেতে পারে ; তবু  শামুক হতে রাজি, শামুক হয়ে গতির উন্নাসিকতা-এই তার নিঃস্ব চলাফেরা

ঋক অমৃতের বেশ কিছু কবিতায় নগর কলকাতার খণ্ডচিত্র দিয়ে একটি বাস্তব জগতের মধ্যবিত্ত আবহ তৈরি হয় 'টিভিতে তখন ব্রেকিং নিউজ' কবিতার প্রথম দু'লাইনে উপস্থিত 'মেঘ', 'আবহাওয়া দপ্তর' আর 'স্যারিডন' শব্দগুলি হঠাৎ মনে করায় ভাস্কর চক্রবর্তী-কে এই কবিতায় দেখি  এই কবির নাগরিক যাপনের স্টপেজ আর স্টেশনগুলি------'থিয়েটার', 'ফ্রাঙ্ক রস' , 'সেলুনের লম্বা লাইন' 'লাল ট্রাফিক সিগনাল', 'ট্রাইডেন্ট' , 'ডি কে লোধ এর বিজ্ঞাপন' ---এই টুকরো চিত্রকল্প মেলালে একটা পরিচিত কলকাতা তৈরি হয়

নিজস্ব গদ্যশৈলী তে লেখা কবিতার পরতে পরতে আছে নাগরিক যাপনচিত্র 'পিক আপ এন্ড ড্রপ ফেসিলিটি' কবিতাটি তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ যতটা ব্যস্ত আমরা এই নগরে সেই ব্যস্ততায় কবি চেষ্টা করেছেন মানব সম্পর্কের অলিগলির টানাপোড়েনে প্রবেশ করার, আর তাই শহরের ব্যস্ততম দিনেও বাঁচার তরুণ প্রত্যয় বাঁচার তাগিদেই কবি লেখেন -

" নতুন কিছু প্রশ্ন দরকার শরীরে চমকে ওঠার ; ঠিক যতটা ব্যস্ত আমরা /নগরে, নিজস্ব শিরায়-জালকেও  যেন ঠিক ততটা কর্মমুখর হয়ে উঠতে / পারি ! বিষণ্নতা এসে থামুক তারই কোন এক স্টপেজে। প্যাসেঞ্জার / নিক। চলে যাক।"  (পিক আপ অ্যান্ড ড্রপ ফেসিলিটি , পৃষ্ঠা-১৩ )

নতুন কিছু প্রশ্ন, নতুন কিছু গান ভুলিয়ে দেয় নাগরিক বিষণ্ণতা শহরের ক্যাকোফোনি আর  গতির নির্মমতা ভুলে সেখানে ঘুরে আসা যায় দূরের সুন্দরবন, আন্দামান, অস্ট্রেলিয়া আবার নতুন করে ফিরে আসা যায় বাড়ির ঠিকানাতেই কারণ "প্রকৃত দিগন্ত তো শেষমেশ আবার আমাদের বাড়ির ঠিকানাতেই পৌঁছে দেয়...”

নাগরিক ব্যস্ততা আদতে কবিকে বাঁচতে শেখায়,  বাঁচার প্রত্যয় দেয় প্রতিদিন কবির জন্ম হয় এই অজস্র কোলাহলে তাই   ...আবার ভরে যাবে উচ্চারণের সাদা কাগজ ” , কাটাকুটির মতন তর্কে তৈরি হবে নতুন ডুডল (মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে /পৃষ্ঠা- ২৭ )

ছায়ার যমজ ঝামেলা শীর্ষক যে চারটি কবিতা রয়েছে ,সেখানে কবি স্বপ্নবিলাসী 'আলিবাবা' হওয়ার জন্য তিনি বলেন 'একটা চৌকাঠ ভীষণ জরুরী' (পৃষ্ঠা ১৬) তিন চার নম্বর কবিতা দুটি কবিসত্ত্বাকে প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড় করায় সত্যিই তো একটি কাব্যগ্রন্থের কবিতারা যতই ভিন্ন হোক বিষয়ে বা প্রকরণে , আদতে  ------ " একটি কবিতা / কোন অন্য একের /রৌদ্রভেদী স্মৃতি "( ছায়ার যমজ ঝামেলা: ) ঋক অমৃত- কাছে কবিতা জীবন্ত এক সচেতনতা তাই কবির কাব্যনির্মাণ আর বিনির্মাণে শব্দেরা নির্বাসন চায় , দেখা দেয় উদ্বাস্তু সমস্যা। এই সমস্ত কবিতায় কবির রসিকতা শব্দহীন ব্যক্তিগত কথোপকথন ফুটে ফুটে ওঠে বারবার নাগরিক বিষণ্ণতা কখনোই কবির ভারসাম্য নষ্ট করতে পারেনি , এই ভারসাম্য কবির মজ্জাগত --

" বাঁ পা এগোলে ডান হাত এগিয়ে আসে/ ডান পা এগোলে বাঁহাত/ অনেক চেষ্টা করেও অভ্যেস শুধরে নিতে পারি না/ অনেক চেষ্টা করেও কি এটা শুধরে নেওয়া যায়। "( কিন্তু চলার সময় /পৃষ্ঠা-১২ )

মুগ্ধ করে কবির মা আর একান্নবর্তী পরিবার বিষয়ক কবিতা 'মা দিবস' এক অদ্ভুত সৌন্দর্যবোধ ঋকের লেখনীতে বারবার ধরা পড়ে সামান্য রান্নাঘর যে মা নামক মমত্ববোধ আর একান্নবর্তী পরিবার নামক আত্মীয়তার গভীরতাকে উন্মোচন করতে পারে ,তাই কবিতা পাঠে উপলব্ধ হয়

'' বয়ামে-বোতলে মশলাপাতি, তেজপাতা, পাঁচফোড়নের সাথে/ কোনটাতে জ্যেঠু, কোনটাই পিসি, আবার কোনোটায় দাদু বা ঠাম্মা !  ভাতের হাঁড়ির দিকে চোখ পড়তেই দেখলাম সেখানে বাবা ফুটছে...

হয়তো এভাবেই এক একটা নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির ভেতর/ আদতে গোটা একান্নবর্তী থেকে যায় " (মা দিবস/ পৃষ্ঠা-২১)

   তবু আধুনিক জীবনযাত্রায় বিচ্ছিন্নতাও প্রকট সম্পর্কের ঘূর্ণিপাকে বাড়ছে মানুষে মানুষে পারস্পরিক দূরত্ব

"হিমযুগের আগেও যে আগ্নেয়পেট ছিল আমাদের / তারও আগে যে নক্ষত্র সংসারে/ ভাগাভাগির ঝগড়ায় ,কোলাহলে সেই প্রথম আমাদের আলাদা হয়ে যাওয়া "  ( বিগব্যাং /পৃষ্ঠা-২৩)

সব কিছুর পরও জীবন্ত হয়ে ওঠে মৃত সম্পর্ক , 'লাইন থেকে দূরে' কবিতায় কী অপূর্ব কবিকল্পনা, কী অপূর্ব মায়াবিধূরতা, জীবনবোধের গভীরতা ! "  ফিরে চাই আকাশের দিকে /যে নক্ষত্র মারা গেছে বহুকাল হল / সেও তো কেমন আলোকিত করে পৃথিবীর ছবি " ( লাইন থেকে দূরে / পৃষ্ঠা 9 )

    কবিতা মানেই কী এক আশ্চর্য উত্তরণ ? যদি এই প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ হয় , তাহলে কথা বলতে দ্বিধা নেই যে 'কলেজ স্ট্রিটের চ্যাপলিন' কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতায় লুকিয়ে আছে এক কাব্যিক উত্তরণ ব্যক্তিগত বোহেমিয়ান জীবন মানে যদি সারাদিন খালি আশ্রয় খুঁজে বেড়ানো হয় , তাহলে বলতেই হয় এরকম বোহেমিয়ানা একজন কবির পক্ষেই সম্ভব তাই দিনশেষের ক্লান্তি কবির কাছে এক ভাস্কর্যখচিত সন্ধ্যা নিয়ে হাজির হয় ঝিনুক ভরা জল ঐশ্বরিক স্পর্শে মুক্ত হয়ে ওঠে একদিকে নাগরিক ক্লান্তি, বিষাদ ,আরেক দিকে বারবার কবির সার্থক উত্তরণ----- যেন ম্যাজিক ,যেন রূপকথা হবেই তো কারণ  "একটি রূপকথার কাছে নিজের শহরকে/ বন্ধক রেখে এলাম "(পুরুলিয়া /পৃষ্ঠা-২৩) এবার আসা যাক কবিতার অনুষঙ্গে ব্যবহৃত স্থাননামে , যেখানে কবি রান্নাঘর থেকে দামোদর ,হেতমপুর ,পুরুলিয়া ,রাজনগর, তাজমহল, অজন্তা ,হরিয়ানা ,গুজরাট হয়ে পৌঁছে গেছেন নক্ষত্রসংসারে এই যে দৈনিক বিস্তার এখানে কবির কবিতারা স্থানীয় থেকে মহাজাগতিক হয়ে উঠেছে নস্টালজিয়া থেকে মিথ মিথ থেকে পৌঁছে যায় সমসাময়িক কালের প্রবাহে , যে কালপ্রবাহ মিশে গেছে মহাকালের অন্তহীন বিস্তারে

কবিতার নিত্যনতুন  আয়োজনে এই কবিতার বই নবতম একটি সংযোজন এই কাব্যগ্রন্থে বহুমাত্রায় ধরা পড়েছে কাব্যিক নস্টালজিয়া  'হেতমপুর' কবিতায় স্থানিক অতীতের বর্তমান ভবিষ্যৎ- ধরা পড়ে রাজনগর বলতে দ্বিধা নেই যাপনের সাধারন থেকে একটা বিষয়কে অসাধারণ করে দেখার চোখ কাব্যশৈলী কোনোটিরই অভাব নেই ঋক অমৃতের লেখনীতে "একজন বিশ্বাসী চাকর বৃদ্ধ হয়তো যাওয়ার জায়গা নেই /বহু পুরুষ ধরে স্মৃতি আগলে কিউরেটর হয়ে বসে আছে /যদি কখনো সিনেমা হলে আসে তাকে গল্প বেচবে বলে ?/যদি কখনো সাহিত্যিক আসে তাকে গল্প বেচবে বলে ?(হেতমপুর /পৃষ্ঠা-২০) 'হেতমপুর' কবিতার খুব কাছের প্রতিবেশী 'বাড়িটি' নামের কবিতা বাড়িটি যে একটি পুরনো পরিত্যক্ত প্রাসাদ তাতে সন্দেহ নেই কিন্তু শব্দের পরতে পরতে যে মায়া কবি ঢেলেছেন  , তাতে বাড়ি একটি প্রতীক , একটি কবিতারই আস্ত প্রতীক ------  স্থবির কিন্তু জীবন্ত "পরিত্যক্ত ঘাটের কাছে একটি ছোঁয়াচে প্রাসাদ /অশ্লীল তার কার্নিশ /পোশাকে স্যাঁতস্যাঁতে রং আর একাকী জানালা / একান্নবর্তী কোলাহল ভুলে ঘুঙুরের স্তব্ধতা নিয়ে চেয়ে আছে" (বাড়িটি /পৃষ্ঠা-২৫ ) লেখনীর মায়া আর চিত্রকল্পের মায়াজাল বাড়িটির জন্য পাঠকের মন কেমন করিয়ে দেয়। " 'স্মৃতির দিন শেষ' হাঁক দিয়ে যায় ফেরিওয়ালা  / পৌরসভা তার নির্জন দেয়ালে লিখে দিয়ে গেছে /'সাবধান ,বাড়িটি বিপজ্জনক' " ( বাড়িটি/ পৃ-২৫) 

ঋক অমৃতের কবিতায় আছে ক্রমাগত এক চলমানতা-----রান্নাঘর-কলেজস্ট্রিট-পুরুলিয়া-গুজরাট থেকে নক্ষত্রসংসার এই হেঁটে চলাই সময় প্রবাহে সাংকেতিক স্বরূপ এই চলমানতাই নাগরিক ক্লান্তি থেকে কবিতাগুলিকে উত্তীর্ণ করে কবিতার শৈল্পিক কল্পলোকে কোথাও অতিকথন নেই , আছে কৈশোর থেকে যৌবনের অ্যাডভেঞ্চার , আছে স্বপ্ন আর বাস্তবের লুকোচুরি আত্মমগ্নতা বারবার রূপান্তরিত হয়েছে আত্মসচেতনতায়

      গণধর্ষণ একটা ঘৃণ্য নৃশংস হিংসা , একটা দানবিক অপরাধ এই হিংস্রতা কে মাত্র তিন লাইনে যে ভাবে পরিবেশন করেছেন কবি  'শার্পনার'', 'পেন্সিল' ইত্যাদি সব অনুসঙ্গে , তাতে কবিতাটি রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে ----"একটি শার্পনার বিছানায় পড়ে /একের পর এক পেন্সিল /ছুলে নিচ্ছে ছেলেরা "(গণধর্ষণ/ পৃষ্ঠা-১৫ ) সমস্ত কবিতার মধ্যে 'ভাষা যেভাবে মরে ' একদম আলাদা এই কবিতায় কোনও কোনও পাঠক খুঁজে পাবে ম্যাজিক রিয়ালিজমের সৌরভ ---- "আসলে মানুষ যেভাবে মরে , ভাষা তো ঠিক মরে না সেভাবে / অদ্ভুত এক তন্ত্র রচনা হয় অক্ষরললাটে বিন্দু বিন্দু চন্দন /অসমাপ্ত দাহ .../দেহ ছুঁয়ে বসে থাকেন চন্ডীদাস (ভাষা যেভাবে মরে/ পৃষ্ঠা-২৯)

    ঋক অমৃতের এই কাব্যগ্রন্থে ছড়িয়ে রয়েছে তাঁর নিজস্ব গদ্যরীতি এই গদ্যরীতি একান্তই তাঁর নিজস্ব 'অভিভাবক' ,'অবচেতন' , 'মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে...' ,'দাগ অচ্ছে হ্যায় ' ,'ভাষা যেভাবে মরে ' ইত্যাদি কবিতায় এই নিজস্ব গদ্যশৈলী ছত্রে ছত্রে কবির সৌন্দর্যবোধ কাব্যিক আকস্মিকতা জন্ম দিয়েছে এক নতুন গদ্য প্রকরণের যা ঋক অমৃতের আত্মজ ব্যক্তিগত

   চ্যাপলিন মানে হাসি ,চ্যাপলিন মানে সারা জীবন দুঃখ লুকানো একটা লড়াই , চ্যাপলিন মানে গভীর জীবনবোধ , আর বছর তেইশের চ্যাপলিন একজন 'অ্যাডভেঞ্চারার, হয়তো আমাদেরই পারসোনা ! এই চ্যাপলিন কলেজ স্ট্রিটের অলিতে-গলিতে নাগরিক বিষণ্ণতা লুকিয়ে তুলে ধরে , তুলে ধরে আলোমাখা খণ্ড খণ্ড চিত্রকল্প ,এক মায়াময় উত্তরণ আর 'আয়াত'কে না হয় আমরা উৎসর্গ করি রহস্যের কাছে , থাকুক কিছু সংকেত , কিছু প্রশ্নচিহ্ন , কিছু বিষয় দূর থেকে দেখার ,কিছু বিষয় না বোঝার

  শুরু হয়েছিল প্রথম কবিতা দিয়ে ,শেষ করি শেষ কবিতা দিয়ে ,যে কবিতায় কবি ছুঁয়ে ফেলেন নিজেরই আত্মাকে , ছুঁয়ে ফেলেন নিজের ছায়া 'যমজ ছায়া'  "মাত্র পঞ্চাশ হাত দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে তোমার গাছ/ যাও তাকে ছুঁয়ে দাঁড়াও/ যাও /কাঁদো" (এখান থেকে/পৃষ্ঠা ৩২)  কান্না কখনো কখনো শ্রেয় হয়ে ওঠে , হয়ে ওঠে গভীরতম প্রকাশ কারণ সবসময় "গোপনাঙ্গের মত নিজেকে লুকিয়ে লুকিয়ে রাখি "-------- কথা সত্য নয়

No comments

Powered by Blogger.